শরিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে জরুরি নির্দেশনা বিএনপির

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। ‘রাজনৈতিক টানাপড়েন, দেশের চলমান পরিস্থিতি ও সরকার ফের জোট ভাঙার তৎপরতা শুরু করেছে’—এমন তথ্যের ভিত্তিতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে জোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে। বিএনপি ও জোটের শীর্ষ একাধিক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, খালেদা জিয়ার বিশেষ নির্দেশনা মঙ্গলবার  (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। যদিও সোমবার রাতে জোটের শরিক দল জামায়াতের ছয় শীর্ষ নেতা এবং মঙ্গলবার সকালে আরও দু’টি দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা আটক হওয়ায় বৈঠকটি স্থগিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের কাছে ব্যক্তিপর্যায়ে খালেদা জিয়ার পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।

তবে জোটের শরিক দলগুলোর কোনও নেতা এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কী কারণে ডাকা হয়েছিল, তা আমি জানি না।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘সাধারণত আমরা বৈঠকের আগে জানতে চাই না, যে কী আলোচনা হবে। বৈঠকে গেলেই সব আলোচনা করি।’

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করে চলমান পরিস্থিতি ও দেশে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অতিথিদের আগমন, মিয়ানমারে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা ও সরকারের পক্ষ থেকে ফের জোট ভাঙার খবরে শরিক দলগুলোর নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। দলীয় প্রধানের নির্দেশেই জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জোট নেতাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। তবে আগের দিন রাতে জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদসহ শীর্ষ ছয় নেতার আটক এবং মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান ও এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশার আটকের খবরে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল করা হয়।

তবে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানকে মঙ্গলবার সকালের আটকের কয়েকঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ইসিতে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, জোট নেতাদের ধরপাকড় নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় মনোযোগ দিতে বলেছেন খালেদা জিয়া। প্রকাশ্যে কোনও সভা বা সেমিনারে বেফাঁস মন্তব্য থেকে বিরত থাকতেও বিএনপি ও জোট নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনকী বন্ধুস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও ভাবনা-বিনিময়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

এদিকে জোট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েকমাসে ২০ দলীয় জোটের একটি শরিক দল জোট ছাড়তে পারে, এমন তথ্য রয়েছে বিএনপিসহ জোটের শরিক দলগুলোর কাছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জোটনেত্রীর পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়ার কথা ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। যদিও এ নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিগত দুই বছর তিনি সভা-সমাবেশে প্রায় বলেন, সরকার জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজনীতিতে অনেক কিছুই করা হয়। পাল্টাপাল্টি রাজনীতিতে, এক-পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য অনেক কিছুই করে। সরকার এখন রাজনৈতিকভাবে খুব শক্তিশালী। সব শক্তি সরকারের হাতে। সরকার অনেক কিছুরই চেষ্টা করতে পারে। এর বেশি তথ্য আমাদের কাছে আসে না।’

এ প্রসঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের ভাষ্য, ‘আমাদের জোট করার পেছনে অন্যতম লক্ষ্য, এই সরকারের দুঃশাসন থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করা। যেহেতু এখনও এই উদ্দেশ্য সফল হয়নি, সে কারণে ভাঙা-গড়ার বিষয়টি এখনও বলা যাচ্ছে না।’

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, দৃশ্যত বিএনপি-জোটকে আন্দোলনের জোট বলা হলেও আদতে এই জোটই নির্বাচনের জোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এই বার্তাটিই জোটের শরিকদের কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে।

আরও দেখুন

সম্পর্কিত খবর