বৈধতা পাচ্ছে ঝিনাইগাতীর দুটি অবৈধ বালুমহাল

বন্ধ হবে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

বিশেষ প্রতিবেদকঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার  সোমেশ্বরী নদীর “তাওয়াকুচা বালুমহাল” ও মহারশী নদীর “বাদে চল্লিশ কাহনীয়া ও বনগাঁও বালু মহাল” এর বৈধতা দিতে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। এর ফলে নদী দুটির স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরে আসবে, রাজস্ব পাবে সরকার ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।

২২ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা বালু মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানান, ঝিনাইগাতীর সোমেশ্বরী  ও মহারশী নদী দুটির বালুমহালে পাহাড়ী ঢলে ভারত থেকে প্রচুর পরিমানে লাল বালু এসে জমা হয়। এতে নদী দুটির তলদেশ ভরাট হয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত ও গতি পথ পরিবর্তন হয়। এর প্রভাবে নদী দুটির পানিতে প্লাবিত হয়ে ঝিনাইগাতী এলাকার ফসলি জমি,বন ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এছাড়াও বালুমহাল দুটি থেকে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন থেকে রাতের আধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে জনসাধারনের চলাচলে বিঘ্নতা ও পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। বালুমহাল দুটিকে বৈধ করে ইজারা প্রদানের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা  করা হলে নদী দুটির নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে, গতিপথ স্বাভাবিক থাকবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের পথ তৈরি হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), পরিবেশ অধিদপ্ত,পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন বিভাগ, বিজিবির প্রতিনিধি এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি ১০ অক্টোবর বালুমহাল দুটি সরেজমিন পরিদর্শন করে। কমিটি সোমেস্বরী নদীর তাওয়াকুচা মৌজায় ৬.৫৩ একর এবং মহারশি নদীর বনগাঁও মৌজায় ১৩.১০ একর এবং বাদে চল্লিশকাহনিয়া মৌজায় ২-০৩ একর জায়গা বালুমহালের জন্য নির্ধারন করে।

জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রস্তাবিত দুটি বালু মহাল “তাওয়াকুচা বালুমহাল” এবং “বাদে চল্লিশকাহনীয় ও বনগাঁও বালু মহাল” অনুমোদনের জন্য  বিভাগীয়  কমিশনারের কাছে প্রেরনের সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়াও জেলার চারটি বালুমহাল-মৃগীনদী বালুমহাল,চরপক্ষীমারি বালুমহাল,সোহাগপুর বালুমহাল ও চেল্লাখালী বালুমহালের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুন:ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বানের পরও কেউ সাড়া দেয়নি। তাই এসব বালুমহাল সমুহ থেকে কেউ যেন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয় জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ওই সভায়।

 

আরও দেখুন

সম্পর্কিত খবর